Connect with us

North East

বাঙালীর ওপর বঞ্চনার আর একটি পদক্ষেপ বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি না দওয়া :: এইচ, এন, মাহাতো

Published

on

ভারতের প্রাচীন ও ঐতিহ্যপূর্ণ ভাষা, যাকে ধ্রুপদী ভাষা বলা হচ্ছে তার পূর্ণ মূল্যায়ণ করা প্রয়োজন।আমাদেরকে ভাষার ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক দিকগুলো প্রথমে অনুসন্ধান করা দরকার। পৃথিবীর সকল দেশের মানুষের নিজেদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদানের মাধ্যম হলো ভাষা। আর এই ভাষার গঠনতন্ত্র তৈরী হয়েছে পাহাড়ের কোলে, নদীর উৎস থেকে সমতলে ও অন্যান্য নদীর মিশ্রনের ধারা ধরে নদীর মোহনার স্থান পর্যন্ত নানা প্রকারের রকমভেদে। তাই পৃথিবীতে কেউই বলতে পারবেনা কোন একটি ভাষাই পৃথিবী জুড়ে বা একটি দেশের ভাষা হবে। এর সঙ্গে আরো কিছু প্রতিফলন দেখা যায় যেমন — ভাষা মানেই সাহিত্য সংস্কৃতির সাথে সাথে আচার ব্যবহার পোশাক পরিচ্ছদ ইত্যাদি ইত্যাদি। ভারতে মহাভারতের যুগ থেকেই সংস্কৃত ভাষার প্রভাব কথ্য ভাষার মধ্যে প্রভাব পড়েছে। ভারতে নদী বহুল দেশ হওয়ার ফলে অতিরিক্ত ভাবে মনগত, রক্তগত, ভাষাগত ও ভাবধারাগত বিমিশ্রণ ঘটার ফলে একটি ভাষার সঙ্গে অন্য একটি ভাষার কিছু কিছু তফাৎ থাকলেও শব্দার্থের জন্য সংস্কৃতের ওপর নির্ভরশীল। আর্য সভ্যতা আসার আগে থেকেই আমরা ভারতীয়রা ৪৪ টি ভাষাকে ভাষা হিসেবে মান্যতা দিয়ে এসেছি। যেমন বাংলা, মগধী, মৈথিলী, অঙ্গীকা, ভোজপুরী, তামিল, তেলেগু, মালায়ালাম, কঙ্কনী, সায়েদ্রী, পঞ্জাবী, লাদাকী, গারোয়ালী, গুর্জর, ডোগরী, হরৌতী,কচ্ছী বিদর্ভী ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ভাষা গুলোর যেমন একটি গঠনতন্ত্র আছে, তেমনি এদের প্রাচীন ঐতিহাসিক ঐতিহ্য আছে। একটি ভাষাকে পূর্ণ মর্যাদা দিতে হলে চাই আটটি উপাদান। (১) নিজস্ব শব্দভান্ডার ( Vocabulary),(২) নিজস্বরূপ ( case ending), (৩) নিজস্ব ক্রিয়া প্রকরণ ( Varb endings), (৪) নিজস্ব সর্বনাম ( Pronoun), (৫) উচ্চারণ রীতি ( Intonating), (৬) লিখিত বা অলিখিত সাহিত্য ও লোকগীতি, (৭) মানসবোধাত্মক ধ্বনিবিজ্ঞান গত অভিব্যক্তি ও তন্মাত্রিক বোধাত্মাক ধ্বনিবিজ্ঞান গত অভিব্যক্তি(৮) কর্তা ও কর্মগত ব্যাকরণ সম্মত সংরচনাশৈলী।
এবার আসা যাক ভাষার অপর অবদমন ও শোষকের হাতিয়ার হিসেবে তৃতীয় ভাষার সৃষ্টি। অনেক ভাষাকে অন্য একটি ভাষা সেই জনগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে ভাষা শোষনের মাধ্যমে অনেক ভাষাকে পৃথিবীতে শেষ হতে ঐতিহাসিকরা দেখেছেন। উদাহরণ স্বরূপ আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার অনুন্নত দেশগুলো আজ প্রচন্ড ভাষার সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। দেশ আবিস্কারের নামে বা সম্পদ লুটপাটের নামে একটু উন্নত দেশেগুলি যেমন ফরাসিরা, পর্তুগিজ ও ইংরেজরা সারা পৃথিবীর যে প্রান্তে গেছে তারা তাদের ভাষা চাপিয়েছে। সারা আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে স্থানীয় ভাষা আজ প্রায় অবলুপ্তের পথে, কোথাও ফরাসি ভাষা, কোথাও ওলন্দাজ ভাষা, কোথাও ইংরেজি ভাষায় কথা বলে। নিজেদের মাতৃভাষা প্রায় অবলুপ্তির পথে। এমনকী অষ্ট্রেলিয়াতে একটি ভাষা জুলু। স্থানীয় নাগরিক ভাষাটি জানলেও ইংরেজি ভাষার চাপে প্রায় ধ্বংসাবশেষ। সাম্রাজ্যবাদীদের শোষনের হাতিয়ারই হোলো ভাষা। সংস্কৃতি, আচার-আচরণ যদি চাপিয়ে দেওয়া যায় শোষণ তার ষোলোকলা পূর্ণ করে, সেই অঞ্চলের স্থানীয় মানুষ মেরুদণ্ড হীন হয়ে দাসত্বের শৃঙ্খল পরতে বাধ্য। যেমনটি ভারতের উর্দু ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের ঔপনিবেশিক প্রতিষ্ঠা করতে কিছু ভারতীয়কে গোলাম বানিয়ে দেশটাকে রসাতলে পৌঁছে দিয়েছে। ইংরাজি শিক্ষার নামে কয়েকটি কেরানী তৈরী করেছিলো মাত্র।
আজকের ভারতের নাগরিকদের সেই পরিনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীরা বলপূর্বক অথবা সংবিধানকে কাজে লাগিয়ে অসাংবিধানিক ভাবে ভুলে ভরা গ্রামার, লিঙ্গের কোন বালাই নেই, জগাখিচুরি হিন্দি ভাষা, যার উৎস ব্রিটিশ আমলে, যার ঐতিহাসিক কোন গীত, সঙ্গীত, কথ্য কোন উপকরণ নেই সেই ভাষাকে ভারতীয়দের মুখে চাপাতে উঠে পড়ে লেগেছে। মহাভারতের যুগে মাগধী, ভোজপুরি, মৈথিলী, বাঞ্জালা, অঙ্গিকা, ব্রোজ ইত্যাদি ভাষার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য আমরা জানতে পারি। তখনকার বাঞ্জালার আজকের পরিবর্তিত রূপ বাংলা ভাষা। ঐতিহাসিকরা বলেন গৌতম বুদ্ধ, মহাবীর জৈন এই বাংলায় প্রায় ২৫০০/২৭৫০ বছর আগে ধর্ম প্রচারে এসেছিলেন। তেমনি আমরা জানি আজকের বর্ধমান শহরের নাম মহাবীর জৈন আমলে তার নাম ছিলো আস্থিকনগর। এমন উদাহরণ আজও বিদ্যমান। বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারী দিনটি সারা পৃথিবীতে মাতৃভাষা দিবস রেখেছেন। কারণ ওইদিন ভাষার জন্য বাংলার দামাল কয়েকটি ছেলে ভাষা দধীচি হয়ে ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পৃথিবীতে প্রথম ভাষার নামে একটি স্বীকৃত দেশের জন্ম হয়েছিল। সেখানে আরও বললেন পৃথিবীর শুধুমাত্র মধুরতম ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষাই প্রথম। অথচ ভারতের হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের ভাষাকে বাংলা ভাষার সঙ্গে টেক্কা দিয়ে না-পেরে বাংলা ভাষার ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে সরকারি বা বেসরকারি সকল শক্তিকে কাজে লাগানোর চক্রান্তে মত্ত হয়ে উঠেছে। এমনকী বাংলা ভাষা ভাষী অঞ্চলে বল পূর্বক অবাংলা ভাষীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করছেন আর স্থানীয় মানুষ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। উদাহরণ বিহারের মূখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদের আমলে উত্তর বিহারের বাংলা ভাষা না জানা শিক্ষকদের দক্ষিণ বিহারের পাঠিয়ে ছিলো। তাঁরা না জানে বাংলা উল্টো দিকে দক্ষিণ বিহারের বাঙালীরা না জানে হিন্দি। ওই শিক্ষকরা বল পূর্বক স্থানীয় ছাত্র ছাত্রাদের হিন্দি শেখাতে বাধ্য করাতে আজ সেই বাঙালীরা বাংলা ভাষাটা ভুলতে বসেছে। শুধু তাই নয় নিম্ন থেকে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলা ভাষাকে বন্ধ করে ভারত থেকে মুছে দিতে চাইছে। এটা এক ধরনের রাষ্ট্রীয় শোষণ। স্থানীয় মানুষের ওপর শোষনকে শক্তিশালী করতে হলে সংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ভাবে মেরুদণ্ড ভেঙ্গে তাদের অস্তিত্বকে শেষ করার হলে মনের ও মুখের ভাষাকে কেড়ে নেওয়াটাই হলো প্রথম পদক্ষেপ।
বাঙালী জাতিসত্তাকে বাঁচাতে হলে বাঙালীস্তান তথা সারা ভারতের ও পৃথিবীর স্বাধীনচেতা বাঙালীর বর্তমান প্রজন্মের ছেলে ও মেয়েদের মুক্তকন্ঠে বলতে হবে আমি বাংলার, বাংলা আমার, আমরা চাই শোষণ মুক্ত বাঙালীস্তান। তবেই বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, নেতাজী সুভাসচন্দ্র বোস, ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী, মাষ্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা, এখনো যারা বাংলা ও বাঙালীর জন্য লড়াই করে পৃথিবীর মুখ উজ্জ্বল করছে তাদের সকলের জীবন সার্থক হবে।

Continue Reading

North East

সাংবাদিক সুবীর দত্তের পিতৃ বিয়োগ

Published

on

যুব দর্পণ প্রতিনিধি, ২৪ জুন, শিলচর :: বিশিষ্ট সাংবাদিক সুবীর দত্তের পিতা সুকুমার দত্ত আজ সকালে ত্রিপুরার কৈলাসহর সরকারী জেলা হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত দুই দিন থেকে হৃদরোগ জনিত কারণে উনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল । উল্লেখ্য যে, প্রয়াত সুকুমার দত্তের জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৩১ সালে। মুরারি চাঁদ কলেজ থেকে আই এস সি পাশ করে।, পরবর্তী সময়ে কোলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে বি এস সি পাশ করে অটোমোবাইল ও রেডিও টেকনিশিয়ান এ ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন জর্জ টেলিগ্রাফ কোলকাতা থেকে। তারপর ১৯৬৫ সালে ত্রিপুরা রাজ্যে এসে ICAT ডিপার্টমেন্টে চাকরিতে যোগদান করে ১৯৯১সালে অবসর গ্রহণ করেছেন।
উনি রেখে গেছেন স্ত্রী এক ছেলে ,এক মেয়ে , পুত্রবধূ সহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী

Continue Reading

Barak Valley

শিলচরে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলো গৈরিক ভারত

Published

on

যুব দর্পণ প্রতিবেদন, ১৫ জুন ২০২১ ইং, শিলচর :: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও কার্ফুর ফলে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক অবস্তা শোচনীয় , এই কঠিন পরিস্থিতিতে শিলচরের মালুগ্রামে আবারও ত্রাণ বিতরণ করল সেচ্ছাসেবী সংগঠন ” গৈরিক ভারত ” । আজ মঙ্গলবার করোনায় আক্রান্ত বৃহত্তর মালুগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে গৈরিক ভারতের শিলচর নগর সভাপতি কানাই দেবনাথের ব্যবস্থাপনায় ও সংগঠনের বরাক উপত্যকার কার্যকরি সভাপতি সুমিত রঞ্জন দাস, কাছাড় জেলার কার্যকরি সভাপতি টুটুল ভট্টাচার্য ও শিলচর নগর সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব নাথের বিশেষ উদ্যোগে , করোনার এই দুঃসময়ে চাউল,আলু, ভোজ্য তেল, সোয়াবিন, বিস্কুট, সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বন্টন করা হয়। সম্পূর্ণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়।এদিনের ত্রাণ বন্টন কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে গৈরিক ভারতের পক্ষে কাছাড় জেলার কার্যকরি সভাপতি টুটুল ভট্টাচার্য, শিলচর নগর সভাপতি কানাই দেবনাথ, সদস্যা সুপ্তা ধর বলেন, এই সেবা কাজের মাধ্যমে যারা ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন তাদের কাছে গৈরিক ভারত কৃতজ্ঞ। যারা ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন তারা এই ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ করে, পুণ্য অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য গৈরিক ভারতের কর্মকর্তারা তাদের কৃতজ্ঞতা জানান। আজকের এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের সময় কাছাড় জেলার কার্যকরি সভাপতি টুটুল ভট্টাচার্য,শিলচর নগর সভাপতি কানাই দেবনাথ, শিলচর নগর সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব নাথ, বিপ্লব রায়, সুদীপ রবিদাস, গোবিন্দ সিং, সুপ্তা ধর সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

North East

SPARKS MRS ASSAM শিরোপা অর্জন করলেন শিলচরের ঝনকা ঘোষ পাল

Published

on

যুব দর্পণ সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি, ২৪ ফেব্রুয়ারি, শিলচর :: উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্যাশন শো ও প্রতিযোগিতা ” SPARK ” Miss, Mrs & Mr Assam এর MRS ASSAM এর শিরোপা অর্জন করলেন শিলচরের গৃহবধূ শ্রীমতি ঝানকা ঘোষ পাল।

স্পার্ক এর উদ্যোগে উত্তর পূর্বাঞ্চল সহ কলকাতা, দিল্লী সহ বিভিন্ন স্হানের কয়েক শতাধিক প্রতিযোগিদের অডিশনের মাধ্যম নির্বাচিত করে ১১ টি জোনে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং এই ১১ জন জোনের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি আই টি এ মাছখোয়াতে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার মেগা ফাইনাল ।

উক্ত প্রতিযোগিতায় বরাক উপত্যকা জোন থেকে জয়ী হয়ে মেগা ফাইনালে নিজের দক্ষতা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে Mrs Assam এর শিরোপার সস্মান অর্জন করেন শিলচরের তরুণ নৃত্যশিল্পী ঝনকা ঘোষ পাল । Mrs Assam শিরোপা অর্জন করে শিলচরের সস্মান বাড়ানোর জন্য শ্রীমতি ঝনকা ঘোষ পাল কে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিশিষ্ট জনেরা উনার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

Continue Reading

Trending